মুন্সীগঞ্জে স্বর্নালংঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে উধাও গৃহবধূ, স্বামীর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক,গজারিয়া-
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন মূলত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইসাপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি সিমেন্ট কারখানার অপারেটর। কর্মসূত্রে তিনি বর্তমানে গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে বসবাস করছেন। এ ঘটনায় তিনি সোমবার ( ১৫ জুন) দুপুরে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামের মমিন মিয়ার মেয়ে লাকি আক্তারের (৩০) সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আনোয়ার হোসেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক পর্যায়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় তার স্ত্রী সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতে থাকেন। এ সময় তিনি অজ্ঞাত এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে তার কোনো কথায়ই স্ত্রী কর্ণপাত করেননি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ঘর নির্মাণের কথা বলে তার শ্বশুর মমিন মিয়া ও শাশুড়ি মিনু বেগম তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং শ্যালক মো. রবিউল ১ লাখ টাকা ধার নেন। এ ছাড়া তিনি নিজ খরচে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্বশুরবাড়ির ভিটায় একটি বসতঘর নির্মাণ করে দেন। পরবর্তীতে ধার দেওয়া ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাকি আক্তার ঘর থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা ও প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। ঘটনার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বামী আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সংসার করে আসলেও সম্প্রতি তার স্ত্রীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তিনি। পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি। সর্বশেষ নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনি মানসিক, পারিবারিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্ত্রীকে খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত লাকি আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হাসান আলী জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply