মুন্সীগঞ্জে ২৮ জুন ৯১ হাজার ৬৩৬ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল
নিজস্ব প্রতিনিধি –
আগামী ২৮ জুন সারাদেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জেও অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (প্রথম রাউন্ড)। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টায় মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে জেলার ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৪ হাজার ৯৪১ জন শিশুকে নীল রঙের ১ লাখ আইইউ এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৫ জন শিশুকে লাল রঙের ২ লাখ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলায় মোট ১ হাজার ৬৩৫টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি স্থায়ী, ১ হাজার ৬০৬টি অস্থায়ী এবং ২৩টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র রয়েছে। কর্মসূচিতে ১৪৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ১১৭ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ২১৭ জন সিএইচসিপি এবং ৩ হাজার ২৭০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিশু পুষ্টি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। জন্মের পরপরই নবজাতককে শালদুধসহ মায়ের দুধ খাওয়ানো, প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ শাক-সবজি ও ফলমূল গ্রহণ এবং পরিবারের রান্নায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে শিশুকে খাওয়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ক্যাপসুল অভিভাবকের হাতে দেওয়া যাবে না কিংবা শিশুকে জোর করে খাওয়ানো যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্টেশন শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ, স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ এবং শিশু মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ৬ মাসের কম বয়সী শিশু, ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু, গত চার মাসের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণকারী শিশু এবং গুরুতর অসুস্থ শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে না।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, জেলার প্রতিটি যোগ্য শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের আওতায় এনে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জেলার সব উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইন সফল করতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি অভিভাবকদের নির্ধারিত তারিখে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বিষয়ে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, ডা. দেবরাজ মালাকার, সিনিয়র হেলথ এডুকেশন অফিসার মো. নাসির উদ্দিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
Leave a Reply