মুন্সীগঞ্জে দুই কক্ষে ৬ শ্রেণীর ক্লাস, গাদাগাদি করে পাঠ নিচ্ছে ১০৩ শিশু
নিজস্ব প্রতিনিধি-
শ্রেণিকক্ষ মাত্র দুইটি, আর ক্লাস নিতে হয় ছয় শ্রেণীর। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে এমন পাঠদান। গাদাগাদি করে ক্লাশ নিচ্ছেন ১০৩ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ভবন আছে দুইটি। এর মধ্যে একটির বিম ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় সেটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ১৯৯৩ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ দুই কক্ষের একতলা ভবনই এখন একমাত্র ভরসা। আবার ঝুঁকি নিয়েই সেই পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে চলছে অফিসের কাজ।
সকালে একই কক্ষে বসানো হয় প্রাক-প্রাথমিকের ১৩ জন আর প্রথম শ্রেণির ১৭ জন শিশুকে। একপাশে বর্ণ শেখে শিশুরা, অন্যপাশে যোগ-বিয়োগ। দুপুরের শিফটে আরও করুণ দশা। চতুর্থ শ্রেণির ২৫ জন ও পঞ্চম শ্রেণির ১০ জনকে একসাথে ঠাসাঠাসি করে ক্লাস করানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছে, “একসাথে দুই ক্লাস হলে স্যারের কথা বুঝতে পারি না। পাশের ক্লাসের শব্দে মনোযোগ থাকে না।”
ওই বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থীও আছে। কিন্তু কক্ষ না থাকায় রুটিন মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
অভিভাবকরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “স্কুলে শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে, শুধু বিল্ডিং নেই। দ্রুত নতুন ভবন না হলে আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমা সিদ্দীকা শিলা বলেন, “১০৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইটি কক্ষে পাঠদান করানো অসম্ভব। একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদানে শিশুদের শিখন কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিসে রেজুলেশন দিয়ে আবেদন করেছি।”
গজারিয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিশুদের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। দ্রুত ভবন বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
Leave a Reply