মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
মোঃ স্বপন বেপারী-
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির চতুর্থ দিনেও মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো ভ্রমণপিপাসু পদ্মা নদীর মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় জমিয়েছেন। পর্যটকদের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ঘাটসংলগ্ন এলাকায়। বেড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, খেলনার দোকান ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনার দোকানেও দেখা গেছে ব্যাপক ভিড়।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাসুদ বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে এসে খুব ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে ট্রলারে করে পদ্মা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছি। পাশাপাশি পদ্মার বিখ্যাত ইলিশের স্বাদও নিচ্ছি। শিশুদের জন্য খেলনাও কিনেছি। সব মিলিয়ে সময়টা দারুণ কাটছে।
পর্যটকদের ভিড়ে খুশি স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরাও। অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটক বাড়ায় আমাদের আয়ও বেড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসায় সারাদিন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, পর্যটক বেশি হওয়ায় আমাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপকৃত হচ্ছেন।
ঘাট এলাকায় ছোট ছোট খাবার ও খেলনার দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা অব্যাহত থাকছে।
তবে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আব্দুল্লাহপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহীন মোল্লা বলেন, দিনের বেলা পরিবেশ ভালো থাকলেও রাত হলে কিছু বখাটে যুবকের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা মাঝে মাঝে নারী পর্যটকদের বিরক্ত করে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে শিমুলিয়া ঘাট এখন একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ এলাকায় পর্যটন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Leave a Reply