মোটরসাইকেল আরোহীকে ধ্বাকা দেওয়ার পর বাস থামাতে বলায় মুন্সীগঞ্জে ৪যাত্রীকে পিটিয়ে জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক- মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাসের যাত্রীদের ওপর ড্রাইভারসহ কয়েকজন মিলে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ৪ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার নেপথ্য: কুমিল্লায় দুর্ঘটনাখোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন। এ সময় চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডা হয়। স্থানীয়রা চালককে মারধর করে এবং পুলিশ এসে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।
সুযোগ বুঝে চালক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় তার নিজ বাড়িতে চলে যান। পরে পরিবহন কর্তৃপক্ষ অন্য একটি বাস পাঠিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পূর্ববর্তী বাসের চালক স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়কের গজারিয়ার বাউশিয়া পাখির মোড় এলাকায় আগে থেকেই ওত পেতে থাকেন। আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ওই এলাকায় পৌঁছালে আগের বাসের চালক বাসটি থামানোর সিগন্যাল দেন। বাসটি থামাত্রই তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং দুর্ঘটনায় বাধা দেওয়া যাত্রীদের ওপর হামলা চালান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসে উঠে লোহার রড দিয়ে যাত্রীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলায় দুই নারীসহ চারজনের মাথা ফেটে গেছে। সে সময় ভুক্তভোগী যাত্রীরা বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন।পরে যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় আহতরা হলেন: সোহেল (২৬)সিয়াস (২১) হাসিনা আক্তার (৪৫)নাসিমা বেগম (৪৮)।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে‘ জানা গেছে, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও পুলিশের বক্তব্যভুক্তভোগী বাসযাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, “এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। হামলায় চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আখন্দ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। এ ঘটনায় জড়িতরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সেজন্য ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
Leave a Reply