মুন্সীগঞ্জে স্বামীর জমিতে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যা যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে স্বামীর জমিতে নিয়ে কুলসুম বেগম নামের এক নারীকে হত্যার দায়ে এক আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায় আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছি আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর বারোটার দিকে মুন্সীগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরিফুল আলম ভূইয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজা প্রাপ্ত আসামি সুমন হোসেন ওরফে সুমন সেখ (৩৫) জেলার শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়গাও গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে । রায় ঘোষণার সময় আসামী আদালতে হাজির ছিল পরে তাকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী কামরুল ইসলাম অয়ন জানায়, ২০২১ সালের ১৭ই জানুয়ারি বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর হতে আমার মা কুলসুম বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একই সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে আমাদের গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলাম ডালিম ফোন করে জানায় পূর্ব হাসাড়গাও গ্রামের পশ্চিম চকে আমার পিতার পতিত জমিতে একজন মৃত মহিলার হাড়, মাথার খুলি, সেন্ডেল, মাথার ক্লিপ ও ছেঁড়া-ফারা কাপড়ের অংশ পাওয়া গিয়েছে এবং ঘটনাস্থলে শ্রীনগর থানার পুলিশ আসছে।
তিনি আরো জানান, এই সংবাদ পাওয়ার পর আমার নানা, নানী ও বোন উক্ত স্থানে লাশের পাশে পরে থাকা সেন্ডেল, মাথার ক্লিপ, কাপড় ও পায়ের আঙ্গুল দেখে আমার মায়ের মৃতদেহের কঙ্কাল সনাক্ত করে। আমার নানী ও বোনের কাছ থেকে উক্ত বিষয়টি শুনে আমিও সিঙ্গাইর হইতে শ্রীনগর থানায় এসে সেন্ডেল, মাথার ক্লিপ, কাপড়, পায়ের আঙ্গুল এবং পায়ের নখ দেখে আমার মায়ের লাশ সনাক্ত করি। থানা-পুলিশ আমার মায়ের লাশের কঙ্কাল এর সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার জন্য ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে প্রেরন করেন।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল ইসলাম অয়ন বাদী হয়ে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই মুন্সীগঞ্জ তদন্ত করে আসামি সুমন শেখকে সনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে আসামী সুমন শেখ ঘটনার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
বিচারাধীনে থাকা মামলাটি ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামি সুমন শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে ওই রায় ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আসামি সুমন শেখ কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
তিনি বলেন, একুশ সালের এই ৫ ফেব্রুয়ারী নিহতের লাশ পাওয়া যায় তার হাজবেন্ডের জমিতে। পরবর্তীতে মামলা হলে পুলিশ তদন্ত করে একজন আসামীকে শনাক্ত করে। সে কিন্তু আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করে। স্বীকারোক্তি প্রদান করার পরে সাক্ষী প্রমাণ এবং আলামত উদ্ধারসহ আমরা একুশ সাল থেকে ছাব্বিশ সালে আজকে রায় পর্যন্ত সযত্নে বাদী পক্ষে আমরা রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছি। আমি গত মাস, এই মাসে নতুন করে পরিচালনা করেছিলাম এবং আজকে কিন্তু আদালত এই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
এই আসামি মূলত নিহতের ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য প্রায় ছয় লক্ষ টাকা নিয়েছিল। সেই টাকা চাওয়ার কারণে, জোরাজুরি করার কারণে ওনাকে খবর দিয়ে এনে ওনার স্বামীর জমিতে হত্যা করে লাশ গাছের নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশ, সেই লাশ উদ্ধার করে তদন্ত করে আসামি নিজেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে দিয়েয়ে। আজকে কিন্তু আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট পোষণ করছি।
Leave a Reply