সিরাজদিখানে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করায় স্ত্রীসহ ৩ জনকেে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে যখম
সিরাজদিখান প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করায় গৃহবধূ ও তাঁর স্বজনদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গৃহবধূর বড় বোনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বড় বোন,দুই ভাগ্নি ও এক ভাগ্নেকে লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী উজ্জ্বল খানের বিরুদ্ধে। আহতদের ইছাপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর আবিরপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল খানের সঙ্গে ২০১০ সালে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইতি বেগম। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন উজ্জ্বল খান। পাশাপাশি স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণও ঠিকমতো দেন না বলে অভিযোগ করেন ইতি বেগম। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ছয় মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বড় বোন সীমা বেগমের দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
ইতি বেগমের অভিযোগ, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তাঁর স্বামী উজ্জ্বল খান বড় বোনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর ভাগ্নি জাকিয়া সুলতানা, জাকিয়া ইসলাম ও ভাগ্নে আল আমিনকে কাটের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ইছাপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ইতি বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁর দুই ভাগ্নির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। থানায় অভিযোগ করার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ইতি বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী উজ্জ্বল খান বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। আমার ও দুই সন্তানের ভরণপোষণও ঠিকমতো দেয না। দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ছয মাস আগে বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। সেখানেও এসে আমাকে গালিগালাজ ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার ভাগ্নিদেও শ্লীলতাহানী ও ভাগ্নেকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার ও সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।
বড় বোন সীমা বেগম বলেন, আমার ছোট বোন ইতি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে আসছে। নিরুপায় হয়ে আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সেখানেও এসে উজ্জ্বল খান অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আমাকেসহ আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেছে। তাদের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে আমার সন্তানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইতি বেগম সিরাজদিখান থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েক বার কথা বলার চেষ্টা কররেও অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply