সিরাজদিখানে গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি
সিরাজদিখান প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে হ্যাপি আক্তার(২৯) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাকে মারধরের পর গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হ্যাপি আক্তার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ছোহরাব শেখের মেয়ে। গত ২০১৫ইং সালে পারিবারিকভাবে সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে রহমান শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী রহমান শেখ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকার সময় কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দেশে ফিরে আসার পর আবারও তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময় তাকে সন্দেহ করে অশালীন ও কটু কথা বলা এবং সামান্য বিষয় নিয়ে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হ্যাপি আক্তার বলেন, আমার বিরুদ্ধ্রে টাকা স্বর্ন নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ করছেন আমার স্বামী,মূলত সে শারীরিক অক্ষম পুরুষ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমার স্বামী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে আমার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমি প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর ভয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। যেকোনো সময় আবারও তার ওপর হামলা কিংবা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রহমান শেখ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে তাকে হত্যার চেষ্টা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে কোনো নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হন, সে জন্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী হ্যাপি আক্তার ও তার পরিবার।
Leave a Reply